সানডে টাইমস: অনলাইন ডেস্ক | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | রাজশাহী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে সম্প্রতি দেখা মিলেছে অতি বিরল প্রজাতির ছোট কালী পেঁচা। সাধারণ দর্শকদের জন্য এটি একটি অনন্য অভিজ্ঞতা, কারণ এই পাখি শুধু বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশেপাশে সীমিতভাবে পাওয়া যায়। আকাশে মার্কিন শকুনের উপস্থিতির পাশাপাশিই এই ছোট কালী পেঁচা নজর কাড়েছে পাখিপ্রেমীদের।
প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আনিসুজ্জামান মো. রেজার নজরে আসে এই বিরল পাখি ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর। তিনি জানান, “ছোট কালী পেঁচা একটি অত্যন্ত বিরল এবং সংরক্ষিত প্রজাতি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বনায়ন এবং শান্ত পরিবেশের কারণে এরা এখানে নিরাপদভাবে থাকতে পারছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পাখির দেখা পাওয়া মানে স্থানীয় বাস্তুসংস্থান এবং পরিবেশের স্বাস্থ্য ভালো অবস্থায় আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা, যেখানে সবুজ প্রাচীর, গাছপালা ও ছোট জলাশয় রয়েছে, সেখানে এই প্রজাতি নিরাপদে বসবাস করতে পারছে। এটি স্থানীয় পাখি পর্যবেক্ষণ ও পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।
ছোট কালী পেঁচার বৈশিষ্ট্য এবং জীবনচক্র নিয়ে শিক্ষকরা বলেছেন, এটি মূলত নিশাচর পাখি, দিনের বেলায় গাছের গোপন শাখায় বিশ্রাম নেয়। প্রধানত ছোট স্তন্যপায়ী, কীটপতঙ্গ এবং ছোট প্রাণীর উপর নির্ভরশীল। এই পাখির উপস্থিতি বায়বিক বৈচিত্র্য এবং স্থানীয় বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নির্দেশ করে।
স্থানীয় পাখিপ্রেমী ও ছাত্রছাত্রীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পাখি পর্যবেক্ষণের সময় ছোট কালী পেঁচার অনন্য নৈসর্গিক সৌন্দর্য দর্শন করার সুযোগ পেয়েছেন। অনেকেই এটিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অমূল্য ধন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শহুরে বিস্তার এবং মানুষের ক্রিয়াকলাপ যদি বৃদ্ধি পায়, তবে এই প্রজাতির বাঁচার পরিবেশ সংকুচিত হতে পারে। তাই এই অঞ্চলের সবুজ ও শান্ত পরিবেশ সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি।
সংক্ষেপে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আকাশে ছোট কালী পেঁচার দেখা পাওয়া কেবল পাখিপ্রেমীদের জন্য নয়, বরং পরিবেশবিদ, শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। এই বিরল প্রজাতি স্থানীয় বাস্তুসংস্থানের জন্য একটি উদ্দেশ্যমূলক ইঙ্গিত এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বের বার্তা বহন করে।
বাংলাদেশে পাখি পর্যবেক্ষণ এবং বিরল প্রজাতি সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এটি একটি অনন্য উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, স্থানীয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পাখিপ্রেমীরা একযোগে কাজ করলে, ছোট কালী পেঁচার ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য দেখতে পারবে।

