জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, নতুন শুল্ক সুবিধা রপ্তানিকারকদের জন্য সুযোগ এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য গতি আনবে
সানডে টাইমস: অনলাইন ডেস্ক | ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ঢাকা
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও কিছু নির্দিষ্ট বস্ত্রপণ্যের ওপর শুল্ক হার কমিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান জানিয়েছেন, আগের ২০ শতাংশের শুল্ক এখন ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট কিছু পোশাক ও বস্ত্রপণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং তৈরি পোশাক খাতে উল্লেখযোগ্য গতি সঞ্চার করবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাত একটি মেরুদণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। গত এক দশকে এই খাত দেশের মুদ্রা অর্জন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ এই খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্যিক দিকেই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মানবিক ও সামাজিক প্রভাবও রয়েছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, শুল্কহার কমানো রপ্তানিকারকদের জন্য আরও সুবিধা বয়ে আনবে। নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেশের তৈরি পোশাক খাতকে নতুন গতি দেবে। আমরা আশা করি, এই পদক্ষেপ রপ্তানিকে আরও প্রসারিত করবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুল্ক কমানোর ফলে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক কমানো মানে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা একই পণ্যের জন্য কম খরচে আমদানি করতে পারবে এবং শেষ ব্যবহারকারী বা ক্রেতার কাছে পণ্য কম মূল্যে পৌঁছাতে পারবে। এটি খাতে মুনাফা বৃদ্ধির সুযোগ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতে ইতোমধ্যেই ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য এই ধরনের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করছে, কিন্তু শুল্ক উচ্চ হওয়ার কারণে পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতামূলক নয়। শুল্ক হ্রাস নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে মার্কিন বাজারে প্রবেশের পথ সুগম করবে এবং দেশের রপ্তানি বৈচিত্র্য ও স্থিতিশীলতা বাড়াবে।
এছাড়া, শূন্য শুল্ক সুবিধা নির্দিষ্ট পণ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাককে মার্কিন বাজারে আরও সুবিধাজনক অবস্থানে রাখবে। এই সুবিধা রপ্তানিকারকদের উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মীসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে প্রবাহিত মুদ্রা বৃদ্ধি সহায়ক হবে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, শুল্ক হ্রাস শুধুমাত্র বাণিজ্যিক নয়; এটি মানবিক প্রভাবও ফেলবে। কারণ তৈরি পোশাক খাতে লাখ লাখ মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, পরিবারের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং গৃহপরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া এটি শিল্পে নতুন বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণের সুযোগও সৃষ্টি করবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের শিল্প ক্ষমতা শক্তিশালী করবে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, শুল্ক হ্রাস বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি দেখাবে যে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি মেনে চলছে এবং মার্কিন বাজারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে। এই পদক্ষেপ বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও দেশের প্রতি আস্থা জোগাবে এবং শিল্পে আরও নতুন প্রকল্পের সম্ভাবনা তৈরি করবে।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। শুল্ক হ্রাসে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের তৈরি পোশাকও মার্কিন বাজারে আরও আকর্ষণীয় হবে। তাই বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের মান, ডিজাইন ও উৎপাদন খরচে আরও মনোযোগ দিতে হবে। একই সঙ্গে পরিবেশ বান্ধব ও শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার দিকেও নজর রাখতে হবে।
অর্থনীতিবিদ ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা একমত, এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন হবে যদি সরকার ও শিল্পপতি একসাথে উদ্যোগ নেন। অর্থাৎ:
উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ ও দক্ষতা বৃদ্ধিশ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও মানবিক কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করানতুন বাজারে প্রবেশের জন্য ব্র্যান্ড ও মার্কেটিং কৌশল তৈরি করাপরিবেশ বান্ধব উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা
এই পদক্ষেপগুলো নিলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত শুধু মার্কিন বাজারে নয়, বিশ্বব্যাপী আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করতে পারবে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের ২০% থেকে ১৯% শুল্ক হ্রাস এবং নির্দিষ্ট পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন দিগন্ত খুলেছে। এটি শুধু বাণিজ্যিক সুযোগ নয়, বরং মানবিক ও সামাজিক প্রভাবও ফেলবে। রপ্তানিকারকরা নতুন বাজারে প্রবেশ করবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, এবং দেশের অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
নির্বাচনী, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রয়োগের মাধ্যমে এই সুযোগ দেশের তৈরি পোশাক খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক এবং স্থিতিশীল করে তুলবে।

